এখন আপনি যেখানে আছেন : হোম
প্রযুক্তি এবং সহায়ক টুলের বিকাশ
প্রযুক্তি এবং সহায়ক টুলের বিকাশ
বাংলা ফন্ট ও কোডের মান্যায়ন
বর্তমানে কম্পিউটারের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় দলিলদস্তাবেজ মুদ্রণ ও সংরক্ষণ, বৈ-ডাক আদানপ্রদান, হিসাবনিকাশ সবই সম্ভব। আগে কম্পিউটার বিশেষের বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করত কম্পিউটারে বাংলা লেখার কলা কৌশল। বর্তমানে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এই নির্ভরশীলতার হাত থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছে। ইউনিকোড ব্যবস্থা বিশ্বের প্রতিটি ভাষার প্রতিটি বর্ণ চিহ্নের জন্য একটি করে কোড তৈরি করেছে যা সারা বিশ্বে স্বীকৃত ও মান্য। ইউনিকোড মান অনুসরণ করে তৈরি ফন্ট সমূহ আজ সারা বিশ্বে কম্পিউটার ও অপারেটিং সিস্টেম নিরপেক্ষভাবে ব্যবহার করা যায়। ভাষা-প্রযুক্তি গবেষণা পরিষদ ইউনিকোড মান অনুসরণ করে তৈরি করেছে তার নিজস্ব বাংলা ফন্ট যা দিয়ে সব ধরনের কম্পিউটার-নির্ভর কাজ করা সম্ভব, সম্ভব সেই সমস্ত কাজকে আদান প্রদান করা বিশ্বব্যাপী। এমনকি বাজারে প্রচলিত ইউনিকোড মান অনুসরণ না করে তৈরি বাংলা ফন্টে যে সমস্ত উপকরণ তৈরি হয়েছে সেগুলিকে ইউনিকোড সম্মত মানে রূপান্তরিত করার জন্যও প্রয়োজনীয় প্রকরণ ভাষা-প্রযুক্তি গবেষণা পরিষদ তৈরি করেছে। এতে করে পুরোনো উপকরণসমূহকে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলা সম্ভব।
কম্পিউটারে ইউনিকোড-সম্মত উপায়ে বাংলা ভাষায় কাজ করার জন্য বেশ কয়েকটি কি-বোর্ড লে-আউট ডিজাইন করেছে ভাষা-প্রযুক্তি গবেষণা পরিষদ, কলকাতা। প্রচলিত টাইপিং লে-আউটে অভ্যস্থ কর্মীদের কথা মনে রেখেই পরিষদ কি-বোর্ডের বিভিন্ন রকম লে-আউট তৈরি করেছে। কি-বোর্ডগুলি নিত্য সংশোধনশীল। এই কি-বোর্ডগুলির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হল এই যে এগুলি ইউনিকোড ৬.৩ মানক সম্মত। সেই কারণে ঐ কি-বোর্ডগুলির সাহায্যে প্রস্তুত নথি আন্তর্জাতিকভাবে মান্য পরিসরে গ্রহণযোগ্য এবং যে কোনো ইউনিকোড সম্মত লিপির সাহায্যে পাঠযোগ্য। পরিষদ একটি নতুন লে-আউট ডিজাইন করেছে যার নাম “বৈশাখী কি-বোর্ড”। বাংলা ভাষার সমস্ত লিপি এবং সংকেত যথার্থভাবে টাইপ করার জন্য ত্রি-স্তরীয় (স্বাভাবিক, শিফ্ট এবং রাইট-অল্ট) এই কি-বোর্ড নির্মিত হয়েছে। এই লে-আউটের প্রধান বৈশিষ্ট – এটি স্বভাবে ধ্বনিবৈজ্ঞানিক।
ভাষা-প্রযুক্তি গবেষণা পরিষদের পক্ষ থেকে, ইনস্ক্রিপ্ট ও গীতাঞ্জলি নামের আরও দুটি জনপ্রিয় কি-বোর্ড লে-আউটকে ইউনিকোড ৬.৩ সম্মত করা হয়েছে। তাদের নামকরণ করা হয়েছে যথাক্রমে বৈশাখী ইনস্ক্রিপ্ট এবং ইউনি-গীতাঞ্জলি। ঠিক একইভাবে সরকারী কর্মীদের সুবিধার্থে যৎসামান্য পরিমার্জনের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ওয়েবেল লে-আউট’।
উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে বৈশাখী কি-বোর্ড সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
উইনডোজের জন্য বৈশাখী কি-বোর্ড: বৈশাখী কি-বোর্ড উইনডোজ (XP SP2 বা তার পরের সংস্করণ)-এ ব্যবহারের জন্য ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।
লিনাক্সের জন্য বৈশাখী কি-বোর্ড : পরিষদ নির্মিত বৈশাখী কি-বোর্ড এখন লিনাক্সের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। সমস্ত প্রধান প্রধান লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনগুলির কাছে সহজ একটি মাধ্যম হিসেবে বৈশাখী কি-বোর্ড গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় হয়েছে। উবুন্তু লিনাক্সের সঙ্গে সহজাত-ভাবেই পাওয়া যাচ্ছে বৈশাখী কি-বোর্ড – তার জন্য স্বতন্ত্র কোনো প্যাকেজের দরকার পড়ছে না।
ম্যাকের জন্য বৈশাখী কি-বোর্ড : ম্যাক ওএসএক্স (১০.৪ বা তার পরের সংস্করণ)-এ ব্যবহারের জন্যও এখন ইউনিকোড সম্মত বৈশাখী কি-বোর্ড প্রস্তুত। যাঁরা বৈশাখী কি-বোর্ড ম্যাকে ব্যবহার করতে চান তাঁরা এখানে ক্লিক করে ডাউনলোড করুন।
অ্যানড্রয়েডের জন্য বৈশাখী কি-বোর্ড : অ্যানড্রয়েডের জন্য বৈশাখী কি-বোর্ড ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।
বাংলা হরফে লেখা ঠিকঠাকভাবে দেখতে হলে কম্পিউটারে বাংলা ফন্টগুলি থাকা প্রয়োজন। এই টুলটি ইন্সটল করলে ২০০টি বাংলা ইউনিকোড ফন্ট কম্পিউটারে ঢুকে পড়বে যার মধ্যে ‘বিদ্যা’ এবং ‘বাংলা আকাদেমি’ নামের দুটি ফন্টও থাকবে।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য বাংলা ভাষার একটি যথাযোগ্য বানান পরীক্ষক নির্মাণ করা যা বিভিন্ন রকম বাংলা অ্যাপ্লিকেশনে কাজে লাগবে। এই প্রযুক্তি, এডিটর এবং অফিস অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য উপযুক্ত।
বানান-প্রমাদ লঘুকরণের উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি বাংলা বানান পরীক্ষকের চাহিদা অনেকদিন ধরেই। ভাষা-প্রযুক্তি গবেষণা পরিষদের তৈরি বাংলা বানান পরীক্ষক ইউনিকোড অনুবর্তী এডিটর, যেমন; এমএস-অফিস, ওপেন অফিস – ইত্যাদিতে ব্যবহার করা যাবে। বাজারে লভ্য বাংলা-বানান-পরীক্ষণ সফটওয়্যারগুলির তুলনায় ফলাফলের নিরিখে এটি বেশ কার্যকরী। এটি ব্যবহারকারীকে শুদ্ধ বানানের সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত সম্ভাব্য একাধিক বানানের তালিকা প্রদান করে।
মাইক্রোসফ্ট্ অফিস : এই বানান পরীক্ষক মাইক্রোসফ্ট্ অফিস-ওয়ার্ড ২০০৭, ২০১০ এবং ২০১৩ –এর ব্যবহারিক ক্ষেত্রের মধ্যে অ্যাড-ইন ফাংশন হিসেবে কাজ করে। এই বানান পরীক্ষণ ইঞ্জিন মাইক্রোসফ্ট্ অফিস-ওয়ার্ডের ওপর নির্ভরশীল কিন্তু অন্য কোনো ভাষা-প্রযুক্তি অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহৃত হতে পারে না। এখানে যে শব্দ ভাণ্ডার ব্যবহার করা হয়েছে সেটি একটি শব্দ তালিকার স্টোরিং এবং প্রসেসিং-এর জন্য সক্ষম। এই বানান পরীক্ষক অ্যাড-ইন একমাত্র উইনডোজ্ এন্ভায়রনমেন্টেই ইনস্টল করা সম্ভব।
ওপেনঅফিস.অর্গ : এই বানান পরীক্ষক অ্যাড-অন, ওপেনঅফিস.অর্গ (OpenOffice.Org) রাইটারের ব্যবহারিক ক্ষেত্রে একটি বাহ্যিক ইউএনও উপাদান-কারক ফাংশন। এই বানান পরীক্ষক ইঞ্জিন ওপেনঅফিস.অর্গ (OpenOffice.Org) রাইটারের ওপর নির্ভরশীল এবং অন্যান্য এনএলপি অ্যাপ্লিকেশনে এটি ব্যবহার করা যাবে না। এখানে যে শব্দ ভাণ্ডার ব্যবহার করা হয়েছে সেটি একটি শব্দ তালিকার স্টোরিং এবং প্রসেসিং-এর জন্য সক্ষম। এই বানান পরীক্ষক অ্যাড-অন উইন্ডোজ্ এবং লিনাক্স – দুটি প্ল্যাটফর্মেই ইনস্টল করা সম্ভব।
অনলাইন ব্যবহারের জন্য : এই বানান পরীক্ষক http://banglabanan.nltr.org – এই ঠিকানায় গিয়ে অনলাইনেও ব্যবহার করা সম্ভব। এই ইন্টারঅ্যাকটিভ অনলাইন সংস্করণ ব্যবহারকারীকে শুদ্ধ বানানের সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত সম্ভাব্য একাধিক বানানের তালিকা প্রদান করে।
বাংলা অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রেকগনাইজার (ও. সি. আর.)
ইউনিকোড মান অনুসরণ করে ভাষা-প্রযুক্তি গবেষণা পরিষদ একটি দ্বিভাষিক লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেছে—এটিকে বৈশাখী লিনাক্স নামে প্রকাশ করা হয়েছে। বৈশাখী লিনাক্স লিনাক্সের উবুন্তু সংস্করণের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। এই সিস্টেম ব্যবহারকারী বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষাতেই যে কোনো ধরনের কম্পিউটার-নির্ভর কাজ (যেমন ওয়েব ব্রাউজিং, ইমেল করা, স্প্রেডশিট তৈরি করা, ইত্যাদি) করা সম্ভব।
ভারতীয় সঙ্গীতের স্বরলিপি কম্পিউটারে লেখার জন্য এটি একটি প্রোগ্রাম যা ইউনিকোড মান অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে। বলা বাহুল্য পাশ্চাত্য সঙ্গীতের জন্য এ ধরনের স্বরলিপি সম্পাদক থাকলেও ভারতীয় সঙ্গীতের জন্যও তা অপ্রতুল ছিল এতকাল। এটি সে হিসাবে একটি সম্পূর্ণ নতুন উদ্ভাবন। এই স্বরলিপি সম্পাদকের আর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, এতে লেখা স্বরলিপি প্রয়োজনে বাজিয়েও দেখা যাবে।
পুরোনো নথির ইউনিকোডে রূপান্তরণ
বাংলায় বৈদ্যুতিন ভান্ডারের একটা বিরাট সম্ভার রয়েছে যা ইউনিকোড মান অনুসরণ না করেই তৈরি হয়েছে। ফলে এই ভান্ডার বর্তমানে সার্থকভাবে ব্যবহার করতে গেলে ইউনিকোডে রূপান্তরণ একান্তই প্রয়োজন। ভাষা-প্রযুক্তি গবেষণা পরিষদ এমন একটি রূপান্তরণ ব্যবস্থা তৈরি করেছে যার মাধ্যমে পুরোনো ইউনিকোড মান অননুসারী বৈদ্যুতিন ভান্ডারকে সহজেই ইউনিকোডে রূপান্তরিত করা যায়। এতে করে পুরোনো অব্যবহার্য নথি যেমন ব্যবহারের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে তেমনি বাঁচানো গেছে অর্থ ও শ্রমের অপচয়।
সফ্ট কিবোর্ড
কিবোর্ড ব্যবহার করে যাঁরা বাংলা টাইপ করতে চান না বা অপারগ তাঁদের জন্য রয়েছে সফ্ট কিবোর্ড ব্যবহার করার সুবিধা। সফ্ট কিবোর্ড টুলটি ইন্সটল করে সফ্ট কিবোর্ড গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেজ নামে একটি অ্যাপ্লিকেশনে মাউসের সাহায্যে বাংলা টাইপ করা যাবে, পরে সেই টাইপ করা বিষয়বস্তু ইচ্ছেমত জায়গায় সেঁটে (paste) দেওয়া যাবে।
বাংলা ফায়ারফক্স ৩.০
এই টুলটি কম্পিউটারে ফায়ার ফক্স ৩.০-র বাংলা সংস্করণটিকে ইন্সটল করবে।
বাংলা ওপেন অফিস ২.৪ (উইন্ডোজ)
মাইক্রোসফ্ট অফিস অ্যাপ্লিকেশনের বিকল্প হিসাবে বিনামূল্যে প্রাপ্য ওপেন অফিস অ্যাপ্লিকেশন-এর বাংলা সংস্করণ এতে রয়েছে। মাইক্রোসফ্ট অফিস অ্যাপ্লিকেশনের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা এতে পাওয়া যায়।
বাংলা সহায়িকা
কম্পিউটারে বাংলায় যে কোনো কাজ করার জন্য বাংলা সহায়িকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন। এটির বৈশিষ্ট্যগুলি হল:
বাংলা নথির নির্ম্যালাইজেশন.
শব্দ এবং ক্যারেক্টার গণনা—এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে একটি বৈদ্যুতিন নথিতে কতগুলি শব্দ ও ক্যারেক্টার (যুক্তাবর্ণগুলিকে একটি ক্যারেক্টার হিসাবে গণ্য করে) আছে সেটি খুব সহজে বলে দেওয়া যায়।
বাংলা নথির বর্ণানুক্রমিক সজ্জা—খুব সহজেই ইউনিকোড বাংলায় লেখা পাঠকে (text) বর্ণানুক্রমে সজ্জিত করা যায়।
বাংলা শব্দ সন্ধান—টাইপ করার সময় সম্ভাব্য বাংলা শব্দের তালিকা এবং বানান পরীক্ষার জন্য এই অ্যাপ্লিকেশনটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির বানান অভিধানটি এই অ্যাপ্লিকেশনটির ভিত্তি হিসাবে রয়েছে। নীচের চিত্রে বাংলা শব্দ অনুসন্ধানের জন্য বাংলা সহায়িকা কীভাবে কাজ করে সেটা দেখানো হয়েছে।
বর্তমান প্রকল্পসমূহ :
ডিপেনডেন্সি ব্যাকরণের নিয়ম মেনে বাক্য বিশ্লেষণের একটি প্রোগ্রাম এটি যা বিভিন্ন প্রযুক্তির বিকাশে (যেমন স্বয়ংক্রিয় অনুবাদক) বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বলা বাহুল্য, বাংলা তথা যেকোনো ভারতীয় ভাষার বিশ্লেষণে এটি সম্পূর্ণ নতুন প্রোগ্রাম।


